প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৭০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রায় ৫২ কোটি মানুষ প্রতিবছর অন্তত এক মাস বিপজ্জনক মাত্রার তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হতে পারে। বর্তমানের তুলনায় এ সংখ্যা চার গুণ বেশি।
বিশ্বব্যাংক বলছে, অতিরিক্ত তাপ ইতোমধ্যেই শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়ছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে নিম্নআয়ের মানুষ, অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক, নারী, বয়স্ক এবং শিশুদের ওপর।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলো এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা কর্মসংস্থান, জীবিকা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তার ভাষায়, তাপসহনশীল শহর গড়ে তোলা শুধু মানুষকে সুরক্ষা দেয়ার বিষয় নয়; এটি কর্মসংস্থান রক্ষা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্যও জরুরি।
প্রতিবেদনটিতে তাপপ্রবাহকে কেবল মৌসুমি দুর্যোগ হিসেবে নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ জন্য নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি নীতি এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনায় তাপসহনশীলতা অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
Government
এছাড়া তাপসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, ‘Heat Action Plan’ আরও শক্তিশালী করা, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, টেকসই শীতলীকরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে

Leave a Reply